আপনি কি কখনও ভেবেছেন, কোনো দেশের টাকা ছাপানোর মেশিন সেই দেশেই থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার কেন প্রচুর পরিমাণ টাকা ছাপায় না? সরকার যদি প্রচুর পরিমাণে টাকা ছাপিয়ে দেশের জনগণনের মধ্যে তা ভাগ করে দিত তাহলে কি হত?
  
BMR Gallery❯❯ News❯❯ why can't a country print money and get rich
কোনো দেশ নিজের ইচ্ছামত টাকা কেন ছাপাতে পারে না।
bmrgallery.Com | Updated:Mar 20, 2020, 09:08PM IST
এটা কেমন হত বলুন তো যদি টাকা অন্যান্য বস্তুর মত কেজি দরে বিক্রি হত? আপনি কি কখনও ভেবেছেন, কোনো দেশের টাকা ছাপানোর মেশিন সেই দেশেই থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার কেন প্রচুর পরিমাণ টাকা ছাপায় না? সরকার যদি প্রচুর পরিমাণে টাকা ছাপিয়ে দেশের জনগণনের মধ্যে তা ভাগ করে দিত তাহলে কি হত?
সে দেশের সবাই বড়লোক হয়ে যেত।
সবাই বড়লোক হয়ে গেলে কাউকে আর কোনো কাজ করতে হত না।
কৃষকদেরকে কৃষিকাজ করতে হত না।
ব্যবসায়ীদেরকে ব্যবসা করতে হত না।
কোনো কোম্পানীর মালিককে তার কোম্পানী চালাতে হত না।
শ্রমিকদেরকেও কোনো কাজ করতে হত না। কারণ সবার হাতেই তো প্রচুর টাকা চলে আসত।
আর সবার হাতেই টাকা আসলে, সবাই বড়লোক হয়ে গেলে কেউ আর না খেতে পেয়ে মরত না বা কেউ ভিক্ষা বৃত্তি করত না। দেশে কোনোরকম বেরোজগারী থাকত না, তাছাড়া রাস্তাঘাট পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা আরও কত উন্নয়ন মূলক কাজ করা যেত তাই না?
কিন্তু কোনো দেশের সরকারই নিজের ইচ্ছেমত টাকা ছাপায় না। প্রত্যেকটি দেশের উন্নয়ন মূলক এত জটিল সমাধান যদি এত সহজেই হয়ে যেত তাহলে প্রত্যেকটি দেশ সবকিছু কাজকর্ম ছেড়ে দিনরাত শুধু টাকা ছাপিয়েই যেত। ঠিক এরকমই ভেবেছিল জিম্বাবোয়ে সরকার । জিম্বাবোয়ে সরকার মনে করেছিল প্রচুর প্রচুর টাকা ছাপিয়ে দেশের সমস্ত জনগনের কাছে তা ভাগ করে দিয়ে খুব সহজেই সেই দেশকে তিনি উন্নত করে তুলবেন। দেশ থেকে সমস্ত রকম গরিবী, বেরোজগারী, অর্থনৈতিক কমজোরি দূর করবেন। কিন্তু প্রচুর টাকা ছাপানোর ফলে সে দেশ উন্নত তো হলই না বরং সবার কাছেই এত প্রচুর পরিমাণে টাকা এসে গেল যে সামান্য একটা রুটির প্যাকেট কিনতেও সঙ্গে করে ব্যাগ ভর্ত্তি টাকা নিয়ে যেতে হত।
2008 সালে জিম্বাবোয়ের অর্থনীতি আরও মারাত্বক সংকটের মুখে পড়ে। সে দেশের সরকার এত প্রচুর পরিমাণ টাকা ছাপিয়ে ফেলে যে দেশের মুদ্রাস্ফীতি বহুগুন হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সে দেশের সরকারকে মিলিয়ন, বিলিয়ন এমনকি ট্রিলিয়ন ডলার নোট পর্যন্ত ছাপাতে হয়। এসবের ফলে জিম্বাবোয়ে ডলারের মূল্য ইউ.এস ডলারের সাপেক্ষে এতটাই নীচে নেমে যায় যে সরকার ঘোষণা করতে বাধ্য হয় জিম্বাবোয়ে ডলার আর বৈধ নয়, যে কোনো কিছু বেচাকেনা করতে হবে বিদেশী নোটে। এই ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে শুধুমাত্র নোট ছাপিয়ে কোনো দেশ উন্নত হতে পারে না। কোনো দেশ তখনি উন্নত হবে যখন মেধাশক্তি কাজে লাগিয়ে সে দেশের দ্রব্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর যে দেশ যত বেশী পরিমাণ সম্পদ উৎপন্ন করতে পারবে সে দেশের উন্নতির চাকা ততটাই এগিয়ে যাবে।
দ্রব্য উৎপাদনের সঙ্গে উন্নতির কি সম্পর্ক বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাক । কোনো দেশকে সেই দেশের মোট সম্পদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টাকা ছাপাতে হয়। যদি সম্পদের চেয়ে মুদ্রা বেশী ছাপানো হয় তাহলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। ধরাযাক কোনো একটি দেশ তার সম্পদ হল শুধুমাত্র 10কেজি চাল। এখন প্রতিকেজি চালের মূল্য 20টাকা করে হলে সে দেশের মোট সম্পদের পরিমাণ 10×20=200 টাকা। পরের বছর দেশটি 400 টাকা প্রিন্ট করলে সে দেশের কাছে থাকবে আগের 200 টাকা এবং নতুন 400টাকা মোট 200+400=600 টাকা। এখন নতুন কোনো সম্পদ সৃষ্টি না হলে, উৎপন্ন চাল 10 কেজিই থাকলে এই 600 টাকা 10কেজি চাল কিনতে বরাদ্দ হবে। তাই প্রতি কেজি চালের মূল্য দাঁড়াবে 60 টাকা। তাহলে প্রতি কেজি চালের মূল্য বৃদ্ধি হল 60-20=40 টাকা। অর্থাৎ মূল্য বৃদ্ধির হার দাড়াল দ্বিগুন। এভাবেই নতুন কোনো সম্পদ সৃষ্টি না হলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ মুদ্রার মূল্য কমে যায়। একেই বলে মুদ্রাস্ফীতি।
আচ্ছা বিষয়টা এভাবে ভাবুন তো। ধরুন সরকার 1টাকাকে 1হাজার টাকার সমান মূল্য ঘোষণা করে দিল। তাহলে কারো কাছে যদি 100 টাকা থাকে তার মূল্য দাড়াল 1000×100= এক লাখ টাকা। অর্থাৎ আপনার কাছে কয়েক হাজার টাকা থাকলেই আপনি হয়ে গেলেন রাতারাতি কোটিপতি। এভাবে যার কাছে যত টাকা থাকবে তার মূল্য সেই অনুপাতেই বৃদ্ধি পাবে। তাহলে আগে যদি আপনি একটি কলম 10 টাকায় কিনতেন এখন তার মূল্য কত হবে? সাধারণ ব্যাপার সেই কলমটির মূল্য দাঁড়াবে 10 হাজার টাকা। ঠিক একই ভাবে সরকার প্রচুর টাকা ছাপালে সবার হাতেই টাকা আসবে। আপনি, আপনার গ্রাম, আপনার শহর , আপনার দেশের সবাই কোটিপতি হয়ে যেতেই পারেন। কিন্তু এসবের ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ছাড়া আর কোনো ভালো পরিবর্তন হবে না। তাহলে বেশী বেশী টাকা ছাপিয়ে নয় দেশের উৎপাদিত সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমেই দেশের উন্নতি সম্ভব।
Share the post
আরও খবর
বাছাই খবর


এক নজরে খবর
শহর   রাজ্য   দেশদুনিয়া   আন্তর্জাতিক   খেলার সময়   ব্যবসা   বাণিজ্য   সম্পাদকীয়   ফটো গ্যালারি   বিঞ্জান   বিনোদন   লাইফস্টাইল   ভিডিও

satta king tw