আপনারা যারা ডলার ব্যবহার করেন বা করেছেন অথবা যারা সংবাদপত্র পড়েন বা টিভিতে খবর দেখেন, দেশের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন, নিজেকে আপডেট রাখেন; তারা অবশ্যই জেনে থাকবেন যে টাকার মূল্য সবসময় স্থির থাকে না। ডলারের সাপেক্ষে টাকার মূল্য কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে।
  
BMR Gallery❯❯ News❯❯ how the value of currency is determined
ডলারের সাপেক্ষে টাকার মূল্য কেন ওঠানামা করে? টাকার মূল্য কিভাবে নির্ধারিত হয়?
bmrgallery.Com | Updated:Mar 20, 2020, 09:08PM IST
আপনারা যারা ডলার ব্যবহার করেন বা করেছেন অথবা যারা সংবাদপত্র পড়েন বা টিভিতে খবর দেখেন, দেশের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন, নিজেকে আপডেট রাখেন; তারা অবশ্যই জেনে থাকবেন যে টাকার মূল্য সবসময় স্থির থাকে না। ডলারের সাপেক্ষে টাকার মূল্য কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে।
ধরে নিন আমেরিকান ডলারের বর্তমান মূল্য 70টাকা । এই অবস্থা থেকে যদি 1ডলারের মূল্য 60 টাকা হয় তাহলে বলতে পারি টাকার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার 1 ডলারের মূল্য 80 টাকা হয়ে গেলে বোঝায় টাকার মূল্য কমে গেছে।
তাহলে কি এমন ফ্যাক্টর আছে যার জন্য টাকার মূল্য কখনও বৃদ্ধি বা কখনও হ্রাস পায়। এখন আমরা সেই বিষয়ে আলোকপাত করব। আর মনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই প্রশ্নটির স্থায়ী সমাধান খুঁজব।
যে কোনো দেশের মুদ্রার মূল্য দুইভাবে নির্ধারিত হতে পারে। এক ফিক্সড ভ্যালু অফ কারেন্সি অর্থাৎ ফিক্সড এক্সচেঞ্জ রেট, দুই ফ্লেক্সিবল ভ্যালু অফ কারেন্সি অর্থাৎ ফ্লেক্সিবল এক্সচেঞ্জ রেট।

ফিক্সড এক্সচেঞ্জ রেট হল এমন একধরনের এক্সচেঞ্জ রেট যেখানে মুদ্রার মূল্য নির্দিষ্ট থাকে এবং এই মূল্য নির্ধারণ করা হয় অপর কোনো একটি আন্তর্জাতিক মুদ্রার সাপেক্ষে অথবা একাধিক আন্তর্জাতিক মুদ্রার সাপেক্ষে অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনার সাপেক্ষে। এই পদ্ধতিতে সরকার নির্ধারণ করে যে তাদের দেশের মুদ্রার মূল্য কত হবে। তাছাড়া সরকার মুদ্রার ফিক্সড ভ্যালু সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই কোনো দেশে ফিক্সড এক্সচেঞ্জ রেট গৃহীত হলে মুদ্রার মূল্য ওঠানামা করে না।
ফ্লেক্সিবল এক্সচেঞ্জ রেট। ফ্লেক্সিবল এক্সচেঞ্জ রেট হল এমন একটি পদ্ধতি যেখানে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত হয় কতগুলো ফ্যাক্টরস দ্বারা। এগুলো হল-

ফরেইন রিজার্ভ অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার । যে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার যত সমৃদ্ধ হবে সেই দেশে মুদ্রার মূল্যও তত বেশী হবে। যেমন ধরুন তৈল সমৃদ্ধ দেশ সমূহ। এই দেশগুলি তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সারা বিশ্বে বিক্রির মাধ্যমে তাদের দেশে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার গড়ে তোলে এবং ট্রেজারিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রাচুর্যের কারণেই তাদের মুদ্রার মূল্য বেশী হয়। এক আমেরিকান ডলার প্রায় 3.7 সৌদি রিয়াল। আবার কুয়েতের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার এতটাই সমৃদ্ধ যে কুয়েতি ডিনারের মূল্য আমেরিকান ডলারের চেয়েও বেশী। এবং এক কুয়েতি ডিনার প্রায় 3.2 আমেরিকান ডলার। আরেকটি ফ্যাক্টর হল-
আমদানি এবং রপ্তানি অর্থাৎ ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট। ইমপোর্ট হল বিদেশ থেকে কোনো দ্রব্য অথবা পরিষেবা সরকারি অথবা বেসরকারি উদ্যোগে নিজের দেশে কিনে আনা। আর এক্সপোর্ট হল নিজের দেশের কোনো দ্রব্য অথবা পরিষেবা মুদ্রার বিনিময়ে বিদেশে বিক্রি করা। এবং এই ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট করা হয় আন্তর্জাতিক কোনো মুদ্রার মাধ্যমে। তাই ইমপোর্ট এর সরল অর্থ হল দেশে সঞ্চিত মুদ্রাভান্ডার থেকে মুদ্রা ব্যয় করা। এবং এক্সপোর্ট এর অর্থ হল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা। এখন ইমপোর্ট বেশী এবং এক্সপোর্ট কম হলে দেশের সঞ্চিত আন্তর্জাতিক মুদ্রাভান্ডার কম হবে এবং টাকার মূল্য কমে যাবে। আবার ইমপোর্ট কম কিন্তু এক্সপোর্ট বেশী হলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার বৃদ্ধি পাবে এবং মুদ্রার মূল্য বেড়ে যাবে। ইমপোর্ট এবং এক্সপোর্ট এর সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত আরেকটি ফ্যাক্টর হল কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট।

কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট ইমপোর্ট এর মাধ্যমে মোট বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় এর চেয়ে এক্সপোর্ট এর মাধ্যমে মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয় কম হলে এদের পার্থক্য বৈদেশিক মুদ্রা লসের পরিমাণ নির্দেশ করে এবং এই পরিমাণকে বলা হয় কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট। তাই কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট হল বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং এটি একটি ব্যবসায়িক পরিমাপ। স্বভাবতই কারেন্ট একাউন্ট ডেফিসিট এর পরিমাণ বেশী হলে মুদ্রার মূল্য কমে যায়। আর ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট এর মাধ্যমে ডেফিসিট না হয়ে প্রফিট হলে মুদ্রার মূল্য বেড়ে যায়। মুদ্রার মূল্যের আরেকটি ফ্যাক্টর হল ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাই।
ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাই যে দেশের মুদ্রার ডিমান্ড বেশী এবং সাপ্লাই কম সে দেশের মুদ্রার মূল্য বেশী হয়। আর যে দেশের মুদ্রার বাজারে যোগান বেশী কিন্তু চাহিদা কম তার মূল্য কম হয়। এই কারণে বেশী বেশী টাকা ছাপালে বাজারে টাকার যোগান বেড়ে যাবে এবং ডিমান্ড কমে যাবে তাই টাকার মুল্যও কমে যাবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেখতে গেলে প্রায় প্রতিটি দেশে ডলারের ডিমান্ড আছে। কারণ প্রতিটি দেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসাবে ডলার সঞ্চয় করে। আর ডিমান্ড বেশী থাকার কারণে ডলারের মূল্যও বেশী হয়। তাই টাকার মূল্য একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় রাখতে গেলে টাকার ডিমান্ড এবং সাপ্লাই এর দিকে সরকারকে কড়া নজর রাখতে হয়। যখন বাজারে ডলারের ডিমান্ড বেড়ে যায় তখন সরকারকে সঞ্চিত ডলার বাজারে সাপ্লাই করে এবং যখন ডলারের সাপ্লাই বেড়ে যায় তখন সরকারকে বাজার থেকে তা কিনে নিয়ে এর ব্যালান্স করতে হয়। এরপর যে ফ্যাক্টর তা হল ইনফ্লেশন
ইনফ্লেশন ইনফ্লেশন এর সহজ একটি অর্থ হল মূল্যবৃদ্ধি। যে দেশের মূল্যবৃদ্ধির হার যত বেশী হবে সে দেশের মুদ্রার মূল্য তত কমে যাবে। উদাহরণস্বরূপ ধরা যাক আমাদের দেশের ইনফ্লেশন রেট অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির হার হল 10% এবং আমেরিকাতে ইনফ্লেশন রেট হল 4% অর্থাৎ আমাদের দেশের ইনফ্লেশন রেট আমেরিকার থেকে 6% বেশী। এই হিসাবে আমাদের দেশের টাকার মূল্য আমেরিকার চেয়ে 6% কমে যাবে। এইভাবে ইনফ্লেশন রেট মুদ্রার মূল্য বাড়া কমার একটা কারণ।

ইন্টারেস্ট রেট ইন্টারেস্ট রেট অর্থাৎ সুদের হার। যে দেশে সুদের হার যত বেশী হবে, সে দেশে বিদেশী বিনিয়োগকারী তত উৎসাহিত হবে পুঁজি ইনভেস্ট করবে। আর বিদেশী ইনভেস্ট বেশী হলে বিদেশী মুদ্রা দেশে বেশী বেশী আসবে, বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে এবং মুদ্রার মূল্য বেড়ে যাবে। অপরদিকে ইনভেস্ট রেট কম হলে এর বিপরীত ঘটনা ঘটবে। যদিও এই হিসাব ইনভেস্ট রেট ধরে করা হয় না। এটি প্রভাবিত হয় রিয়াল ইনভেস্ট রেট দ্বারা। কোনো দেশের রিয়াল ইনভেস্ট রেট হল নোমিনাল ইন্টারেস্ট রেট এবং ইনফ্লেশন রেট এর বিয়োগফল। ধরুন কোনো দেশের ইন্টারেস্ট রেট হল 10% এবং ইনফ্লেশন রেট হল 4% তাহলে রিয়াল ইন্টারেস্ট রেট হল 6%। তাহলে যা দাঁড়াল রিয়াল ইন্টারেস্ট রেট বেড়ে গেলে মুদ্রার মূল্য বাড়বে এবং কমে গেলে মুদ্রার মূল্য কমবে।
স্টক মার্কেট স্টক মার্কেটের পারফরম্যান্স ভালো হলে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক কারেন্সি রিজার্ভ বেড়ে যাবে অর্থাৎ মুদ্রার মূল্য বাড়বে আর স্টক মার্কেট পারফরম্যান্স খারাপ হলে বিদেশী বিনিয়োগ হাতছাড়া হবে, বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় কমে যাবে এবং মুদ্রার মুল্যও কমে যাবে। এরপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হল -
আদার কান্ট্রি'জ কোনো একটি দেশের মুদ্রার মূল্য অন্যান্য দেশের পারফরম্যান্স এর উপরেও নির্ভর করে। যেমন আমাদের দেশের তুলনায় চীনে ইন্টারেস্ট রেট বেশী হলে, চীন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বেশী বেশী সুবিধা দিলে, সেখানকার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ভালো হলে, বিদেশী বিনিয়োগকারী আমাদের দেশে নয় তারা চীনে তাদের বিনিয়োগ বেশী বেশী করে করবে। সে ক্ষেত্রে সে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দেশে বিনিয়োগকারী হাতছাড়া হবে এবং এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার কম হবে এবং টাকার মূল্য কমে যাবে।
এভাবেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মুদ্রার ডিমান্ড এবং সাপ্লাই অনুসারে টাকার মূল্য অর্থাৎ মুদ্রার মূল্য কখনো বাড়ে কখনো কমে।
Share the post
আরও খবর
বাছাই খবর


এক নজরে খবর
শহর   রাজ্য   দেশদুনিয়া   আন্তর্জাতিক   খেলার সময়   ব্যবসা   বাণিজ্য   সম্পাদকীয়   ফটো গ্যালারি   বিঞ্জান   বিনোদন   লাইফস্টাইল   ভিডিও

satta king tw